জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশ: 2022-08-10 08:02:34 | অর্থ ও বাণিজ্য

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বুধবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এপ্রিল, মে ও জুনে দেশের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হয়। জুলাইয়ে এসে কিছুটা কমে এলেও এখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই মূল্যস্ফীতি আগের চেয়েও বেড়ে যাবে।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানির সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তার প্রভাব সার্বিক অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার উপরে পড়বে। অর্থাৎ দাম বাড়লে, খরচ বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।’

এ পরিস্থিতিতে গরিব মানুষ কষ্টে আছে, তাদের এই কষ্ট লাগবে সরকার কী করবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্যই সরকার। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গরীব মানুষের কষ্ট অনেক বেশি হয়। ইতোমধ্যে তাদের কষ্ট লাঘবে সরকার ওএমএস, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা থেকে গরীব মানুষকে সুরক্ষা দিতে আরও কী সহায়তা দেয়া যায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ডলারের দাম বৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক সংকট। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের দেশে দেশে বাড়ছে ডলারের দাম। যারা যুদ্ধ করছে তাদেরও বাড়ছে, যারা যুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন তাদেরও বাড়ছে।

‘বাংলাদেশও তার প্রভাব আছে। তবে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। শিগগিরই ডলারের দাম স্বাভাবিক হবে।’শিগগিরই দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনীতিতে সার্বিক ক্ষতির প্রভাব কেমন হবে তার কোনো অ্যাসেসমেন্ট করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের মত করে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। এখন দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পণ্যমূল্য বাড়ছে। যার প্রভাব পড়বে মানুষের জীবনযাত্রা ও উৎপাদমুখী সব কর্মকাণ্ডে।

‘এখন এই প্রভাব কতটা প্রকট হতে পারে বা কতটা সহনীয় থাকবে সে বিষয়ে নিশ্চয় অর্থ মন্ত্রণালয় একটা প্রভাব খতিয়ে দেখবে।’ একইসঙ্গে অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এই পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।ডলারের বাজারে অস্থিরতার সময় দেশি-বিদেশি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে পদ থেকে অব্যাহতির বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কোনো কিছুই নিয়মের বাইরে হওয়া উচিত নয়। ব্যাংক চলে নিয়মের মধ্যে। নিয়মেই বলা আছে কী পরিমাণ টাকা ব্যাংকে রাখা যাবে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা যাবে, আরও কী করতে হবে সেটিও বলা আছে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তি পেতে তো হবেই।’