সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ : গুলিতে নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশ: 2021-10-26 01:15:33 | আন্তর্জাতিক

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর গুলিতে ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৪০ জন। সোমবার (২৫ অক্টোবর) সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল এবং জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটির রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর সেনাসদস্যদের চালানো গুলিতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটল।
এ ছাড়া অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের চালানো গুলিতে প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও।

এর আগে সোমবার সুদানের সামরিক বাহিনীর জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্র্বতী সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে অন্তর্র্বতীকালীন সার্বভৌম কাউন্সিল এবং সরকার ভেঙে দেন তিনি। এ ছাড়া সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদকসহ দেশটির বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও বেসামরিক কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়।
রয়টার্স বলছে, সোমবার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারকে হটিয়ে সুদানের ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন দেশটির গণতন্ত্রকামী জনগণ। এ সময় বিক্ষোভস্থলে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বিবিসি জানিয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থান, জরুরি অবস্থা জারি এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সোমবার রাস্তায় অবস্থান নেন সাধারণ সুদানিরা। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ শুরু করে সেনা সদস্যরা। এতেই ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আয়োজকদের ধরতে রাজধানী খার্তুমের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে সুদানের সামরিক বাহিনী।

৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে। সামরিক অভ্যুত্থানের মূল হোতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এ অভ্যুত্থানের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছেন।গুলিতে আহত এক বিক্ষোভকারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর সদর দফতরের পাশে সেনা সদস্যরা তার পায়ে গুলি করে। অন্য এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে সেনাসদস্যরা প্রথমে স্টান গ্রেনেড এবং পরে সরাসরি তাজা গুলিবর্ষণ করে।

বিবিসি বলছে, খার্তুমের একটি হাসপাতালে বহু মানুষকে রক্তাক্ত কাপড় এবং বিভিন্ন রকমের আঘাত নিয়ে আহত অবস্থায় সেখানে আসতে দেখা যায়।সেনা কর্মকর্তা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটির সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান। ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি রয়েছে এ কাউন্সিলের।অভ্যুত্থানের পর দেশটির বেশিরভাগ সরকারি দফতর, মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের পক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদককে প্রথমে গৃহবন্দি, পরে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।দেশটিতে ২০২৩ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। গত মাসেও দেশটিতে অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়। তবে অভ্যুত্থানের ওই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।

লোকালয়/আর/এন/