কিছু কথা না বললেই না...উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া--

কিছু কথা না বললেই না...

প্রায় দুইবছর হতে চলল নাঙ্গলকোট উপজেলায় ইউওনো হিসাবে এসেছি।আসার পর পরই করোনার ভয়াল থাবা আঘাত করলো দেশ জুড়ে।শুরু হল দিনরাত্রির ছুটে চলা।স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য, লকডাউন নিশ্চিত করার জন্য,করোনা রুগী উদ্ধার এর জন্য,ত্রান বিতরণের জন্য...কখনোবা সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য ছুটে চলেছি এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। নাঙ্গলকোট এর এমন কোনো জায়গা আছে কিনা যেখানে আমি যাই নি...জানি না আসলে।ইউওনো হওয়ার পর ছুটির দিনেও ছুটি কাটিয়েছি কবে বলতে পারি না। এরপর এল ঘরের কাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার গৃহহীনদের গৃহ প্রদান কার্যক্রম। সৌভাগ্যবান আমি... সুযোগ পেয়েছি এমন মহান কাজের অংশীদার হওয়ার। নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১৪৩ টি ঘরের বরাদ্দ পেয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।অবৈধ ভাবে দখল করা খাস জমি উদ্ধার করেছি..মাটি ভরাট করেছি..ভূমিহীন চিহ্নিত করে...নিজের বুঝে ইট,বালি,সিমেন্ট কিনে তাদের ঘর তৈরি  করেছি।সাথে ছিল আমার অভিভাবক  মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সুপরামর্শ,জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এর নির্দেশনা, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় এর সহযোগিতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নিরলস পরিশ্রম, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং কিছু অসহায় মানুষের মন থেকে দোয়া ।  আমি...আমরা...দেশের সকল উপজেলার সকল ইউওনো সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে...মেধা দিয়ে...আন্তরিকতা দিয়ে ঘরের কাজ করেছি।এই ঘর আমাদের জন্য দায়িত্বের কিংবা কর্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।আমাদের ভালবাসার জায়গা। দিনরাত্রির পরিশ্রমের সাথে এবার যোগ হল রাত জাগা।লাস্ট ৪ মাস এর কবে টানা শান্তিতে ঘুমিয়েছি.. মনে নাই।ঝড় বৃষ্টি, করোনা.. শত বাধা উপেক্ষা করে শুধু ঘরের কাজ করেই গিয়েছি।এভাবেই এক লক্ষের বেশি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তান্তর করল অসহায় মানুষের মাঝে সমগ্র দেশ জুড়ে ।শেখের বেটির এই কাজে অনেক প্রশংসা পেয়েছি,পেয়েছি দোয়া..আর সাথে কিছু করার  আত্ম তৃপ্তি। 

....হঠাৎ নামল যেন দূর্যোগের ঘনঘটা। প্রবল বৃষ্টিপাতে কিছু ঘর ভাঙ্গল।২০০ কিংবা ৩০০। % হিসাব করলে ০.২৫% এরও কম। যারা এই ঘরগুলো বানিয়ে হিরো হয়েছিল কেমন কেমন করে তারা আজ দেশবাসীর কাছে দোষী হয়ে গেল। মনে হতে লাগল কি যেন এক পাপ করে ফেলেছে দেশের সকল ইউওনো। সেই কালো মেঘের ছায়া পড়লো নাঙ্গলকোট উপজেলায়।এত শ্রম এত কষ্ট করে যে ঘরের কাজ করলাম তার জন্য মিথ্যা,বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিমূলক  তথ্য প্রকাশ করল গুটি কয়েক ব্যক্তি। তারা বলল ঘর করেছি গণকবরে যদিও সেখানে কোন কবরের হদিস পাইনি।১৯৮ জএল এর সেই জমি শ্রেনিতে ভিটি।কবর আসবে কোথা থেকে! তারপর বললো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর পরিদর্শন টীম সব যাচাই করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন (আলহামদুলিল্লাহ)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম যেখানে জড়িত সেখানে নিম্নমানের সামগ্রী জেনেশুনে কেউ ব্যবহার করবে..এতটা বোকা মনে হয় আমরা কেউ না।আর টাকা বাচাব???যারা আমার সম্পর্কে জানে বা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা আমার নিন্দুকেরাও আমার সততা নিয়ে প্রশ্ন করবে মনে তো হয় না। তারপর তারা একজন সম্পূর্ণ সরকারপক্ষের লোককে সরকার বিরোধী বানিয়ে দিল!উনার ব্যাকগ্রাউন্ড.. উনার সঙ্গী কারা..সবাইতো জানে।সমাজের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষকে এভাবে কলুষিত করা ঠিক?

সবাই বলে...কেউকে দূর্বল করার মোক্ষম হাতিয়ার হল তার পরিবার।পরিশেষে জড়ালো আমার পরিবারের নাম।এতেই আমার ঘোর আপত্তি। যে যাই বলেন...গালি দেন..আমাকে দেন।আমার কাজের দায়ভার সম্পূর্ণ আমার।ভাল করলেও আমি..খারাপ করলেও আমি।এখানে আমার পরিবার কেন?ধিক্কার জানাই সেই সব দূর্বলচেতা মানুষকে  যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে ধুলিস্মাৎ করার জন্য,কলুষিত করার জন্য একের পর এক মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করছেন।আর অনেকে না জেনেই সেই মিথ্যাকে সত্য মেনে প্রচার করার দায়িত্ব নিয়েছেন। দুঃখজনক। 

মানুষের উদ্দেশ্য দিয়ে তার কর্ম বিচার করা উচিৎ। আমি নাঙ্গলকোট আসার পর থেকে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করি নাই..করবও না।ইনশাআল্লাহ। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে ঘরের কাজ করার চেষ্টা করছি।আমি আমার কাজ নিয়েআত্মবিশ্বাসী।ভুল ত্রুটি হলে সেটা অবশ্যই অনিচ্ছায় কিংবা অনভিজ্ঞতায়।তারপরও ১০০ বার ভুলত্রুটি শোধরাব সবার সহযোগিতায়।কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে কোন কাজ করব না।কেউ জানে কিনা..শুধু মাত্র মান নিশ্চিত করার জন্য এক স্পটের মাটি বৃষ্টিতে দেবে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রেখেছি।উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় এর সহযোগিতায় ৭০ ফুট গাইডোয়ালের কাজ শুরু করেছি।না করেও যদি দোষী হই...আত্মসম্মান যদি নষ্ট হয় কোনো কারণে এই বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়াতো অসম্ভব। সবাই যদি এভাবে অসহযোগিতা করে ছোট বেলায় 'আদর্শ লিপি' তে পড়া 'সৎ পথে থেকো', 'সদা সত্য কথা বল' এই শিক্ষা গুলোতো মিথ্যা হয়ে যাবে। তবে আমি দূর্বল না।তাই দূর্বল ভাবার দরকারও নেই আমাকে নিন্দুকের নিন্দাসূচক কথাকে শক্তি বানিয়ে এগিয়ে যাব অদম্য গতিতে ইনশাআল্লাহ।  তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবই...।