কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করতে রাজি নন লঙ্কান ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ সফরে আসার আগেই কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা। একপ্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে দেশে ফিরেছে তারা। এবার বোর্ডকে সাফ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শর্ত মেনে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না তারা।
আগামী বুধবার (৯ জুন) তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে লঙ্কান ক্রিকেট দলের। কিন্তু কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ঘিরে চলমান ঘটনায় এই সফরও পড়ে গেছে অনিশ্চয়তায়। দ্রুততম সময়ে সব কিছুর সমাধান না হলে, সফর স্থগিতও হয়ে যেতে পারে।

শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক কুশল পেরেরা ও সহ-অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, দিমুথ করুনারাত্নে, দিনেশ চান্দিমালসহ তারকা ক্রিকেটারদের সবাই মিলে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। যেখানে ৩৮ জন ক্রিকেটার মিলে স্বাক্ষর করে জানিয়েছেন, বোর্ডের দেয়া শর্তাদি মেনে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নাম লেখানো সম্ভব নয়।
গত অক্টোবর থেকেই অবশ্য কেন্দ্রীয় চুক্তি নেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে। তবে এর মধ্যেও অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে সব সিরিজ ও সফর খেলছে লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় চুক্তির ঘোষণা করতে চায় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু তাদের দেয়া শর্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকার অভিযোগ তুলেছেন ক্রিকেটাররা।
মূলত নতুন চুক্তিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও ইনজুরি ইস্যু মাথায় রেখে রেটিং সিস্টেম করেছে লঙ্কান বোর্ড। পাশাপাশি প্রায় সব খেলোয়াড়েরই পারিশ্রমিক কমিয়ে আনা হয়েছে। এই রেটিং সিস্টেম করার পথে সেখানে স্বচ্ছতা রাখা হয়নি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন শীর্ষ ৩৮ ক্রিকেটার।
তবে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সাক্ষর না করলেও, দেশের হয়ে খেলতে রাজি ক্রিকেটাররা- এমনটাই জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী নিশান প্রেমাথিরাত্নে। কিন্তু এক্ষেত্রেও রয়েছে জটিলতা। কেননা চুক্তিবিহীন অবস্থায় ক্রিকেটাররা সফর করলে বা সিরিজ খেললে, সেটির কোনো আইনি ভিত্তি থাকবে না। তাই আসন্ন সফরটিকে ঘিরে চলছে অনিশ্চয়তা।
চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি নন যে ৩৮ ক্রিকেটার
কুশল পেরেরা, দিমুথ করুনারাত্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকভেলা, সুরঙ্গা লাকমল, দাসুন শানাকা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, লাসিথ এম্বুলদেনিয়া, পাথুম নিসাঙ্কা, লাহিরু থিরিমান্নে, দুশমন্থ চামিরা, কাসুন রাজিথা, লাকশান সান্দাকান, বিশ্ব ফার্নান্দো, ইসুরু উদানা, ওশাদা ফার্নান্দো, রমেশ মেন্ডিস, লাহিরু কুমারা, দানুশকা গুনাথিলাকা, আশেন বান্দারা, আকিলা ধনঞ্জয়, চামিকা করুনারাত্নে, আসিথা ফার্নান্দো, বিনুরা ফার্নান্দো, শিরান ফার্নান্দো, আভিশকা ফার্নান্দো, ইশান জয়ারাত্নে, চারিথ আসালাঙ্কা, ধনঞ্জয় লাকশান, নুয়ান প্রদীপ, সাদিরা সামারাবিক্রম, কামিল মিশারা, প্রবীণ জয়াবিক্রম, রোশেন সিলভা ও মিনোদ ভানুকা।