ইসকনের উগ্রতা : প্রবর্তক সংঘে মোতায়েন হচ্ছে আনসার

লোকালয় ডেস্ক: প্রবর্তক সংঘের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রবর্তক সংঘের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আনসার ভিডিপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ককে এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামি সপ্তাহেই ১২/১৫ সদস্যের একটি আনসার ব্যাটালিয়ন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে প্রবর্তক সংঘের সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী উগ্রবাদী ইসকনের দুস্যুবৃত্তি থেকে রক্ষা ও তাদের জানমালের নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।

জানা যায়, ইসকন ও প্রবর্তক সংঘের দ্বন্দ্বটি প্রকাশ্যে আসে মূলত ১২ মার্চ ২০২১ সালের ঘটনার পর থেকে। গত ১২ মার্চ প্রবর্তক সংঘের সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মন্দিরে প্রবেশমুখের নিরাপত্তা চৌকি অপসারণের সময় ইসকনের সদস্যরা প্রবর্তক সংঘের ১২জন কর্মচারীকে ব্যাপক মারধর করে। এতে গুরুতর আহত ৯ জন দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এব্যাপারে প্রবর্তক সংঘ থানা ও আদালতে মামলা দায়ের, সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা করে ইসকনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে । অন্যদিকে ইসকন আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রবর্তক পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বৃক্ষকর্তন করে। নিজেরা নিজেরাই উদ্বোধন করে দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মন্দির। চুক্তি অনুযায়ী মন্দিরের মালিক প্রবর্তক সংঘ মন্দির উদ্বোধনের সময় উপস্থিত থাকা দূরের কথা, কোনো নিমন্ত্রণই পায়নি।


প্রবর্তক সংঘের অভিযোগ, ২০০৪ সালে করা চুক্তির প্রায় বেশিরভাগ শর্তই ভঙ্গ করেছে ইসকন। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ গন্ডা জায়গা ব্যবহারের কথা থাকলেও ইসকন এর দ্বিগুন জায়গা জোর করে দখলে নিয়েছে। মন্দিরের নাম প্রবর্তক শ্রী কৃষ্ণ মন্দির রাখার বিষয়ে চুক্তি হলেও ইসকন প্রবর্তকের মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে মন্দিরের নাম রেখেছে ইসকন প্রবর্তক মন্দির। মন্দির পরিচালনায় উভয় পক্ষের আনুপাতিক হারে লোক রাখার চুক্তি হলেও প্রবর্তকের সদস্যরা মন্দির কমপ্লেক্সের ভিতরে প্রবেশের অনুমতিই পায় না বরং হুমকি-ধমকির শিকার হয়। মন্দিরে বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সাধুবেশে অবস্থান করছে আশঙ্কা করে আবস্থানকরীদের পরিচিতি নিশ্চিত হতে তাদের আইডি কার্ড সংরক্ষণের কথা বলা হলেও ইসকন তাদের কথা পাত্তাই দেয়নি বরং সাধুবেশে সন্ত্রাসীদের অবস্থানের একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে একে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রবর্তক সংঘের সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী জানান, ইসকনের সাথে প্রবর্তক সংঘের উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রবর্তক সংঘ বারবার ইসকনকে আহ্বান করলেও ইসকন সে আহ্বানে সাড়া না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছে। এমনকি হিন্দু ধর্মীয় অনেক প্রবীণ নেতারাও এ বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করলে ইসকন এতে কর্ণপাত করছে না।

এর মধ্যেই গত ২ এপ্রিল অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে শীর্ষস্থানীয় হিন্দু নেতাদের উপস্থিতিতে ঢাকাস্থ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ কার্যালয়ে সমঝোতা সভায় বসার কথা বলে সবাইকে সেখানে উপস্থিত করে পরবর্তীতে নিজেরাই অনুপস্থিত থেকেছে। বরং ইসকন আরও উগ্রবাদী আচরণ করছে বলে অভিযোগ প্রবর্তক সংঘ সংশ্লিষ্টদের। এই পরিস্থিতিতে সেখানে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলো চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।