প্রথম সেশনে উইকেটশূন্য বাংলাদেশ

শেষ ওভারে শরিফুল ইসলামের বল একটুর জন্য দিমুথ করুণারতেœর অফস্টাম্প ভাঙেনি। বল ছেড়ে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক, কিন্তু বাঁক খেয়ে স্টাম্পের পাশ দিয়ে চলে যায়। আগের ৫ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ওই ওভারটি মেডেন দিলেন বাংলাদেশের অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার। এর আগে তাসকিন আহমেদের বল লঙ্কান অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে যায়। কিন্তু ক্যাচ ছেড়ে দেন তিনি। তাতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না নিয়েই শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শেষ হয়েছে প্রথম সেশনের খেলা। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে ২৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। করুনারাতেœ ও থিরিমান্নে- দুজনই ৩২ রানে অপরাজিত রয়েছেন। লঙ্কানরা কোনো উইকেট না হারালেও, সহজে রান তুলতে পারেনি।

ম্যাচে বাংলাদেশের ৯৭তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিজাত টেস্ট ফরম্যাটে নাম লিখিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী শরিফুল ইসলাম। ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন চৌধুরীর জায়গায় নেয়া হয়েছে তাকে। বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন এই একটিই। অভিষেক হয়েছে লঙ্কান প্রবীন জয়াবিক্রমেরও।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার বদলে গেল পুরো চিত্র। টস জিতেছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারাতেœ, জানিয়েছেন আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। টসের সময় মুমিনুল হক জানিয়েছেন, টস জিতলে তিনিও আগে ব্যাটিং নিতেন।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের নবম ওভারের মধ্যে চার বোলার ব্যবহার করে ফেলেন মুমিনুল। আবার পুরো সেশনেই তিনি ব্যবহার করেননি দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তাইজুল ইসলামকে। পঞ্চম ওভারেই আক্রমণে আনেন অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে, নবম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ের সুযোগ পান শরিফুল।
এত বোলিং পরিবর্তনের সুফল পায়নি বাংলাদেশ। নিষ্প্রাণ উইকেটে লাইন-লেন্থ বজায় রেখে রান কমিয়ে রাখার কাজটা ঠিকঠাকই করেছেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, আবু জায়েদরা। কিন্তু মেলেনি উইকেটের দেখা। অবশ্য ফিল্ডারদের সহায়তা পেলে দুই ওপেনারকেই ফেরাতে পারতেন তাসকিন।
ইনিংসের ২০তম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ২৮ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন করুনারাতেœ। কাঁধ সমান উচ্চতায় আসা বলটি হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি শান্ত। ফলে জীবন পান লঙ্কান অধিনায়ক। এছাড়া তাসকিনের ওভারেই মুমিনুল ও মিরাজের খুব কাছ দিয়ে চলে যায় দুইটি ক্যাচ।
সেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত ৩২ রানে অপরাজিত থাকা করুনারান্তে, অষ্টম রান নেয়ার সময় পূরণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫ হাজার রান। শ্রীলঙ্কার দশম এবং বিশ্বের ৯৭তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৫ হাজারের মাইলফলকে নাম লিখিয়েছেন তিনি।