২০২০ ছিল আওয়ামীলীগের মানবিকতা আর শৃঙ্খলার বছর

মুহাম্মদ হানিফ, প্রকাশক

২০২০ সাল শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে তবে করোনার কারণে বছরজুড়ে মানবিক কর্মসূচি নিয়েই ব্যস্ত ছিল আওয়ামীলীগ।  একই সঙ্গে দলের ঐতিহ্য ও সুনাম বজায় রাখতে দলীয় শৃঙ্খলায় কঠোর ছিল ক্ষমতাসীনরা।

জানুয়ারি থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোট নিয়ে সাংগঠনিক ব্যস্ততায় বছর শুরু করে দলটি। সিটি কর্পোরেশন ভোটে বিজয়ী হয়ে জেলা-উপজেলা সম্মেলনে জোর দেয়া হয়।  করা হয় তিনটি জেলা ও কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন।  আর এসবের মধ্যেই ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

২৬ মার্চ দেশজুড়ে লকডাউন দেয়া হয়।  এই লকডাউনে চার মাস আওয়ামীলীগের কোনো দৃশ্যমান রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না।  আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যা ছিল; তা হলো দেশের জনগণের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া। করোনার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না হলেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী বছরব্যাপী সক্রিয় ছিল মানবতার কল্যাণে।

মানবিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দীন আহমদ কামরান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও সাবেক এমপি হাজী মকবুলসহ সারাদেশের ৫২২ নেতাকর্মী।

করোনার আঘাতের মধ্যেই আবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যা দেখা দেয়। সে সময়ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী অসহায় মানুষকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা করে। এর মধ্যে দেশের ৫০ লাখ মানুষকে আড়াই হাজার করে টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় অসহায় গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করেও দেয়া হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও সীমিত কর্মসূচিতে পালিত হয়। এ ইস্যুতে বেশকিছু ওয়েবিনার করে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক। ৩ অক্টোবর সীমিত আকারে দলের কার্যনির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরদিন সম্মেলনের ১০ মাসের মাথায় আট বিভাগে নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংগঠনিক নেতারা নিজ নিজ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় সম্মেলন সম্পন্ন হয়।

করোনার মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদকাণ্ডে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশেরকারীদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এরপরই দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধাবাদী এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যায় আওয়ামী লীগ।

এছাড়া বিদায়ী বছরে আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোর দেয়। দলীয় কোন্দলের কারণে গত ১৯ নভেম্বর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়াকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরআগে আওয়ামী লীগের ৫ সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ এবং যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে করোনাভাইরাস যখন নিয়ন্ত্রণে তখন মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন শুরু করা হয়েছে।