তার হাত ধরে ভারতের প্রথম করোনা টেস্ট কিট

ভারতেও হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। দেশটিতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্যে নয়শ ৩৩ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর দেশটিতে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন। তবে সুস্থও হচ্ছেন। করোনার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ জন। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশটিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট নেই বলে কড়া সমালোচনা চলছিল। কিন্তু সেই সমালোচনা শেষ হতে চলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় শতভাগ নির্ভুল ফল দিতে পারে এমন কিট উদ্ভাবন করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের মাইল্যাব ডিসকোভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান দাখেভে ভোঁসলে। তিনি একজন ভাইরোলজিস্ট এবং ভাইরাস নিয়ে কাজ করেন। কিট উদ্ভাবনের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সন্তানও প্রসব করেন।

বৃহস্পতিবারই ভারতের তৈরি প্রথম এই কিট বাজারে পৌঁছে যায়। আশা করা হচ্ছে, ফ্লু জাতীয় কোনো রোগে আক্রান্ত হলে খুব দ্রুত পরীক্ষা করতে পারবে এই কিট। বাজারজাত করা প্রথম চালানে প্রতিষ্ঠানটি পুনে, মুম্বাই, দিল্লি, গোয়া ও বেঙ্গালুরুতে দেড়শটি কিট পাঠিয়েছে। মাইল্যাব ডিসকোভারির চিকিৎসাবিষয়ক পরিচালক গৌতম ওয়াংখেড়ে গত শুক্রবার বলেন, আমাদের উত্পাদন ইউনিট কাজ করছে। পরবর্তী চালানটি সোমবার বাজারে ছাড়া হবে।
এর আগে মাইল্যাব ডিসকোভারি এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং অন্যান্য অসুখের পরীক্ষার জন্য কিট বানিয়েছিল। তারা এক সপ্তাহে এক লাখ কিট সরবরাহ করতে পারবে বলে জানায়। প্রয়োজন হলে সপ্তাহে দুই লাখ কিট দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রযেছে। মাইল্যাবের প্রতিটি কিট দিয়ে একশটি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। প্রতিটি কিটের দাম পড়বে এক হাজার দু’শ রুপি।
মাইল্যাব ডিসকোভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান ও বিজ্ঞানী মিনাল দাখেভে ভোঁসলে জানান, তাদের কিট দিয়ে খুব সহজেই করোনার পরীক্ষা করা যাবে। আর ফলও পাওয়া যাবে আড়াই ঘণ্টায়। আর আমদানি করা কিটগুলো দিয়ে করোনার টেস্টের ফল পেতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগছে। তিনি বলেন, এমন কিট বানাতে সাধারণত তিন মাস থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু আমরা এটা রেকর্ড সময়ে তৈরি করেছি। এটি তৈরিতে সময় লেগেছে মাত্র দেড় মাস।
এতো কম সময়ের মধ্যে কিট উদ্ভাবনের পেছনে আরো একটি কারণ রয়েছে। এই কিটের উদ্ভাবক মিনাল দাখেভে ভোঁসলে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। এই মাসেই তার সন্তান জন্ম দেওয়ার তারিখ ছিল। তিনি চাইছিলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেই কাজটি শেষ করতে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারা কাজ শুরু করেন। দেড় মাসের মধ্যেই সাফল্য পান। আর সাফল্য পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সন্তান জন্ম দেওয়া জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচারে তার কন্যা সন্তান হয়।
কিটের উদ্ভাবক মিনাল দাখেভে ভোঁসলে বলেন, একটা জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলো। আমি এই সময়ে দেশের জন্য কিছু করার চ্যালেঞ্জটা নিলাম। দেশের সেবা করাটা জরুরি আমার কাছে। আমাদের ১০ জনের দলটি কঠোর পরিশ্রম করেছে এই সাফল্য পেতে।