‘আমি মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি’ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুধাবন করে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব কিছুর আগে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং জনগণের প্রতি তাঁর ভালবাসা ছিল সীমাহীন। আমি এখন যা করছি তা জাতির পিতার আদর্শের প্রতিচ্ছবি।’

ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব বাংলাদেশের (সিবিসিবি) সভাপতি প্যাট্রিক ডি’রোজারিওর নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ সকালে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যানে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তিনি কুষ্ঠ রোগীদের ঘর করে দিয়ে তাদের পুনর্বাসিত করেছেন।
তিনি বলেন, সমাজে অবহেলিত বেদে এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে তিনি পুনর্বাসিত করছেন। প্রধানমন্ত্রী সমাজের বিত্তশালী শ্রেণিকে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং এই পরিস্থিতিতে অসহায় ব্যক্তিদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন।

তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায় সর্বদা তাঁর পাশে থাকবে।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা ও মূল্যায়ন করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।

রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া এবং তাদের জীবন বাঁচানো প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশাল মানবিক কাজ বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এর অংশ হিসেবে তারা তারা মোট ৭ লাখ গাছ লাগাবে এবং ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা টুঙ্গিপাড়া গিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আর্চ বিশপ বিজয় ডি’ক্রুজ, কূটনীতিক কোরের ডিন এবং বাংলাদেশে ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরি।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।