সুপার ওভারে জিতল দিল্লি

মরুর দেশে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচটিই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে কানায় কানায়। দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় ম্যাচটি মেলে ধরলো উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের সবটুকু পসরা। তাতে কেএল রাহুলের কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব হেরে গেল শ্রেয়াস আয়ারের দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে।
সুপার ওভারে ম্যাচ যাওয়া মানেই সেটি লটারি। যে কেউ জিততে পারে। কিন্তু ৪০ ওভারের রোমাঞ্চকর প্যাকেজে যে ক্রিকেটারটি ছিলেন ২২ গজের বিতর্কহীন রাজা, ক্রিকেট তাকেই বরমাল্য দিল রবিবার রাতে। দিল্লির অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই বুনে দিয়েছেন সেই ছন্দ।

১৭ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১০০, ২০ ওভারে প্রাক্কলিত রান ১২৭। সেখান থেকে দিল্লি ৮ উইকেটে ১৫৭ রানে পৌঁছুলো স্টয়নিসের বিস্ফোরক কিংবা জাদুকরী ব্যাটিংয়ে। শেষ তিন ওভারে আসে ৫৭ রান! ২০ বলে ফিফটি, নো-বলে রান আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ৫৩ রান করেছেন স্টয়নিস। সাত চারের সঙ্গে মেরেছেন তিন ছক্কা, ক্রিস জর্ডানের শেষ ওভারে দেওয়া ৩০ রানের মধ্যে দুই ছক্কা ও তিন চার মেরে একাই নেন ২৪ রান।
রান তাড়ায় সবসময়ই এগিয়ে ছিল টসজয়ী পাঞ্জাব। যদিও তাদের নীতি ছিল ধীরে চলো। বড় ভরসা অধিনায়ক ও ওপেনার রাহুল আউট হতেই তাই একটু চাপেই পড়ে যেতে হয়। রণকৌশল ছিল একটা প্রান্ত ধরে রাখবেন আরেক ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল, অন্যপ্রান্তে ব্যাটে ঝড় তুলবেন মিডলঅর্ডারের অন্য ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু হয়নি। ইংল্যান্ড কাঁপিয়ে আসা আরেক অস্ট্রেলিয়ান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ওপর ছিল অনেক আশা। কিন্তু কেন যেন ম্যাক্সওয়েল আইপিএলে পাঁপড়ি মেলতে পারেন না। এ ম্যাচে আউট হলেন এক রান করে। সব দায়িত্ব চাপলো আগরওয়ালের ওপর। আর কী ব্যাটিংটাই না করলেন ২৯ বছর বয়সী ওপেনার!
শেষদিকে তার ব্যাটে ঝড় দেখল দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সাত চার ও চার ছক্কায় ৬০ বল ৮৯ রান করে দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের কিনারায়। শেষ ওভারে ১৩ রানের প্রয়োজনীয়তা আগরওয়াল নামিয়ে আনেন তিন বলে এক রানে। স্টয়নিসের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বল হাঁকিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ হন হেটমায়ারের হাতে। শেষ বলে একটি রান নিতে পারেননি জর্ডান, ক্যাচ হয়েছেন শর্ট স্কয়ার লেগে। দুই দলের রান হয়ে যায় সমান ১৫৭। সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সুপার ওভার বিশেষজ্ঞ কাগিসো রাবাদা পর পর দুই বলে উইকেট তুলে লক্ষ্য দাঁড় করান মাত্র তিন রান। সেটি তুলতে কোনো সমস্যাই হয়নি আয়ার ও  ঋষভ পন্তের।
আম্পায়ার বিতর্কিতভাবে একটি রান শর্ট দিয়েছেন পাঞ্জাবকে, ম্যাচ মীমাংসা করেছে সুপার ওভারের লটারি। তার পরও এটি স্টয়নিসের ম্যাচ, তার হাতেই উঠেছে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার।